বিধানসভা নির্বাচনের আগে, প্রখ্যাত অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায় সংবাদ মাধ্যমের কাছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তাঁর মতামত ছিল অনেকটাই বাস্তববোধসম্পন্ন এবং পরিষ্কার। একজন পরিচিত তারকা হিসেবে, তিনি ভোটারদের কাছে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি কাকে দেখতে চান? প্রশ্নের উত্তরে মাধবী বলেন, “এখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কিছু বলা কঠিন। তবে, যাদের আমি ভালো মনে করি, যেমন জ্যোতি বসু, ইন্দিরা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু কিংবা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁদের সকলকেই আমি শ্রদ্ধা করি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে এমন কিছু গুণ রয়েছে, যেমন দুঃস্থ শিল্পীদের সাহায্য করা, দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানো, যা আমি ভালোভাবে দেখি।
তবে, দেশের বর্তমান দুরবস্থা কাটাতে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কারো নাম বলা খুবই কঠিন। আসল চরিত্র শুধু দায়িত্বে আসার পরই বোঝা যাবে।” এছাড়া, তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে তিনি দল নয়, বরং ব্যক্তিগতভাবে যে প্রার্থী তাঁর ভালো লাগে, সেই প্রার্থীকে ভোট দেন। দলের মধ্যে অনেকেই কাজ করেন, আবার অনেকেই নানান কারণে অকার্যকর। সেই কারণেই তিনি বলেন, “যিনি কাজ করছেন, তাঁকেই ভোট দেব, যিনি অকাজ করছেন, তাঁকে আমি সমর্থন করি না।” তাঁর মতে, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে শুধু পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন সম্ভব নয়, কারণ মানুষের মন বুঝে তার কাজের মানসিকতা বুঝে ভোট দেওয়া উচিত।
“প্রশ্নপত্র তৈরি করতে হলে মানুষের মন বুঝতে হবে, যে, তার মানসিকতা কী, সেটা আসল”, মন্তব্য করেন মাধবী। নিজেকে কখনোই বিধায়ক হিসেবে ভাবেন না মাধবী। তিনি বলেন, “এই কাজ আমি জানি না, তাই বিধায়ক হওয়ার চিন্তা কখনোই করিনি। তবে আমি চাই, সমাজের পরিবর্তন হোক। মানুষ যেন খাবার পায়, মাথার উপর ছাদ পায়।” তাঁর মতে, সমাজের উন্নতির জন্য সরকার ও সমাজের সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। তবে, তাঁর পেশার জগতে কোনো অভিযোগ তিনি ভোট প্রচারে তোলার প্রয়োজন মনে করেন না। বাংলা ছবির অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, “এখন বাংলা ছবি বিশেষভাবে চলছে না, তবে তার জন্য সরকারের কিছু করার নেই।
নির্মাতাদের ভাবতে হবে, দর্শকরা কী চায়। তাই ভোট প্রচারে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনার কোন অর্থ নেই।” নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে মাধবী তাঁর মতামত দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, দুর্নীতি কমানোর জন্য ঘরে ঘরে শিক্ষা এবং সততার পাঠ দেওয়া উচিত। “তবে তখনই আগামী প্রজন্মের মধ্যে দুর্নীতি কমবে,” তিনি বলেন। দলের মধ্যে ঘন ঘন দলবদলের প্রসঙ্গে তিনি জানান, “এই ব্যাপারে যারা দায়িত্বে আছেন, তাঁদের কাজ। তবে, যারা সুবিধাবাদী হিসেবে দলবদল করে, তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।” দেশের সংস্কৃতি, উন্নয়ন বা সমান অধিকার।
আরও পড়ুনঃ “এবার আমরাও মুড়ি খেতে শুরু করব” আগরপাড়া স্টেশনে ঝালমুড়ি বিক্রি মদন মিত্রের, সঙ্গী হলেন অভিনেত্রী শ্রীতমা ভট্টাচার্য! মোদীর ‘ঝালমুড়ি নাটক’-এর পাল্টা দিতে গিয়ে ভাইরাল, বাংলার শাসকদলের কীর্তি-কলাপ!
এই বিষয়ে মাধবী বলেছেন, “উন্নয়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি মানুষের জন্য উন্নয়ন জরুরি।” শেষে, তিনি জানিয়ে দেন যে, তাঁর পছন্দের রাজনীতিবিদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। “মমতাকেই আমি পছন্দ করি।” তিনি বলেন, মমতার মধ্যে এমন কিছু গুণ রয়েছে যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে। যদিও তিনি রাজনীতি নিয়ে খুব বেশি কথা বলতে চান না, তবুও তাঁর মতামত পরিষ্কার ছিল, বিশেষ করে যখন তিনি বলেন যে, তারকারা ভোট প্রচারে সরাসরি অংশ নিতে পারেন, কিন্তু তা নিশ্চিত করতে হবে যে তাদের দেশের প্রতি ভালোবাসা সত্যিই আছে। “কারণ, সত্যিকারের কাজ করতে স্বার্থহীন হতে হবে,” তাঁর মন্তব্য ছিল।






